পাওলো কোয়েলহোর সাক্ষাৎকার | ১ম পর্ব

পাওলো কোয়েলহো বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় জীবিত লেখক—তার ‘দ্য অ্যালকেমিস্ট’ই ব্রিক্রি হয়েছে কোটি কোটি কপি। তার খোঁজ নিতে ২০১০ সালের ১২ মার্চ তাকে জেনেভায় ফোন করেন ব্রায়ান ড্রাপার।

শেষ পর্যন্ত কোয়েলহো স্বীকার করেন তিনি খুব কম সাক্ষাৎকার দেন—ওই বছর তখন পর্যন্ত তিনি মাত্র দুইটি ইংরেজি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরে তার নিজেরই বয়ান, ‘আপনার ম্যাগাজিন যখন দেখলাম, বলে উঠলাম, খুবই ইন্টারেস্টিং এবং চ্যালেঞ্জিং একটা সাক্ষাৎকার হবে।’

আপনি বলেছেন আপনার বেস্ট সেলার ‘দ্য অ্যালকেমিস্ট’ লিখতে মাত্র ১৪ দিন সময় লেগেছে। তার কারণ কী, সেটা আগেই আপনার মনের মধ্যে লেখা হয়ে গিয়েছিলো (যেমনটা আপনি বলেছেন)?
আমাকে আরও ভালোভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করতে দিন। আমি বিশ্বাস করি আমাদের প্রত্যেকেরই হৃদয়ে প্রকাশ করার মতো স্ফুলিঙ্গ রয়েছে। দুনিয়ায় আমাদের কাজ আর আমাদের মানব পরিস্থিতির দাবি হলো নিজেদের যথার্থতা প্রকাশ করতে সেই স্ফুলিঙ্গে আগুন ধরিয়ে দেওয়া। এই কারণে খুব ছোটো বেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিলো লেখক হবো, যদিও আমি খুবই দেরি করে ফেলেছি, কারণ মানুষ নিজের সামনে দাঁড়াতে কখনো কখনো ভয় পায়।

আমি যখন দ্বিধা কাটিয়ে ওঠার সিদ্ধান্ত নিই এবং লিখতে শুরু করি, তখন আমার বয়স ৪০ বছর। আমার প্রথম অভিজ্ঞতা নিয়ে আমি ‘দ্য রোড টু সান্তিয়াগো’তে লিখেছি। আর তারপর দ্বিতীয় বইয়ের জন্য আমি নিজের জীবনের রুপক লেখার সিদ্ধান্ত নেই, কেন জানি না সেটা বহু মানুষের হৃদয়ে সাড়া ফেলে দেয়। ফলে ‘দ্য অ্যালকেমিস্ট’ (১৯৮৮) ছিলো কেবল পেছন ফিরে দেখা আর ভালো একটা গল্প খুঁজে বের করা, একটা রুপক খুঁজে বের করা, আমার জন্য নিজেকে বোঝা। আর তারপরে হ্যাঁ মাত্র দুই সপ্তাহে এটি আমি কাগজে লিখে ফেলি; কিন্তু বইটি বহুদিন আগের, কারণ এটা আমার জীবন।

আপনার জন্য লেখা কি কেবলই নিজের মধ্যে সুপ্ত থাকা গুপ্তধন খুঁজে পাওয়ার বিষয়, নাকি অনেক বেশি নন্দন প্রকাশ, ভালোবাসার শ্রম?
আমি বলতে চাই আমরা যা কিছু তার সবকিছুর সঙ্গেই ভালোবাসা যুক্ত। প্রথমে, আপনাকে এই ডাক শুনতে হবে। আপনি জানেন, জীবনকে অর্থবহ করে তোলার মতো যে কোনও কিছুর কাছে আপনি যখন থাকেন—এটা হতে পারে বাগান করা, রান্না করা, ট্যাক্সি চালানো, কিংবা যা কিছু করতে আপনি ভালোবাসেন—সবকিছুর মূলই হলো: ভালোবাসা। আমি মনে করি না একজন লেখক অন্য কারো চেয়ে বেশি ভালো কিছু করছে। উৎসাহ নিয়ে আপনি যা কিছুই করছেন তাতে আপনি সত্যিই ঈশ্বরকেই উদ্ভাসিত করছেন।

পরের ধাপটা হলো নৈপূণ্যতা দেখাতে জানা। সুতরাং লেখার জন্য প্রথমেই আমাকে পড়তে হয়। কোর্স কিংবা ওয়ার্কশপ থেকে আপনি লিখতে পারা শিখতে পারবেন না—আমি এগুলোতে বিশ্বাস রাখি না। আপনি অন্য লেখকের লেখা পড়তে পড়তেই লেখা শিখবেন, যেসব মানুষ আপনার সঙ্গে তার অন্তর, অভিজ্ঞতা, তারা নিজেরা যা ছিলো তা ভাগ করে নিতে চেয়েছে, তাদের পড়তে পড়তেই লেখা শিখবেন। এরপরে আপনাকে কিছু বিষয় বেছে নিতে হবে—আমি কোন বিষয়ে লিখবো? মূল প্রশ্নগুলো কী? তারপরে আপনাকে নিজস্ব কৌশলের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। আপনি লেখা শুরু করে দেন এমন একটা চেতনা থেকে যে, অন্যরা যা করে ফেলেছে আপনি তার পুনরাবৃত্তি ঘটাবেন না।

আমার ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ ছিলো সাধারণীকরণ করা। আমি খুব জটিল লেখকদের পড়তাম। কখনো কখনো গল্পে আটকা পড়তাম কিন্তু ভাবতাম ‘ওরে খোদা, এগুলো খুব জটিল! কেন এক প্যারা লিখতে পুরো একটা পাতা লাগাচ্ছে? একটা বাক্যই তো যথেষ্ট।’ ফলে কীভাবে ছেটে ফেলতে হয় তা আমি শিখতে শুরু করলাম, আর এখন আমি এটাই করি। আমার নিজের যে কোনও বইয়ের প্রথম ভার্সনে চূড়ান্ত ভার্সনের চেয়ে অন্তত তিনগুণ বেশি পাতা থাকে। এটা অনেকটা নিজের মাংস কেটে ফেলার মতো, তারপরও এটা করার দরকার পড়ে।

আপনি বলেছেন আপনি স্প্রিচুয়াল (আধ্যাত্মিক) লেখক নন। আপনি কী স্প্রিচুয়ালিটিকে অকেজো টার্ম মনে করেন?

কখনো কখনো আমি আমার মূল প্রশ্ন নিয়ে আধ্যাত্মিক দুনিয়া নিয়ে লিখি বলেই আমি স্প্রিচুয়াল লেখক হয়ে যাই না। যুদ্ধ নিয়ে লিখলেই আপনি জেনারেল হয়ে যাবেন না। গোয়েন্দা নিয়ে লিখলে আপনি গোয়েন্দা হয়ে যাবেন না। কিন্তু আপনাকে যখন স্প্রিচুয়াল লেখকের লেবেল লাগিয়ে দেওয়া হবে, মানুষ ভাববে: ওহ, সে হয়তো কিছুর উত্তর জানে, কিংবা তার কাছে হয়তো আরও ভালো যোগাযোগ আছে কিংবা… না! এটা এমন একটা কিছু যেটা আমি ঘৃণা করি, এটা আধুনিক যুগ। আমার কাছে আধুনিক যুগ হলো মানুষের তৈরি করা সব ধরনের ধর্মের পাত্রই গলিয়ে দেখা, যাদের নিজেদের একটি ধর্ম আকড়ে ধরার সাহস নেই।

ফলে, আমি ক্যাথোলিক লেখক নই, আমি একজন লেখক যিনি ক্যাথোলিক হয়ে উঠতে পারতেন, তাই না? কোনো কোনও সময় আমি পোপের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করি। চার্চের মিশনারিদের আমি শ্রদ্ধা করি—কিন্তু ইংরেজিতে এটা কীভাবে বলবো? এই কারণে আমি আমার ধর্মকে ছাড়িয়ে যেতে চাই। এটা এমন অর্থে যে আধ্যাত্মিক চেতনা কেবল সুবিধাপ্রাপ্ত বা ক্যাথোলিক কিংবা অন্য যে কেউই হোক শুধু তাদের জন্য নয় : ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষের সঙ্গে আপনাকে আলাপ চালিয়ে যেতে হবে।

ইলেভেন মিনিটস (২০০৩)-এ মারিয়া নিজের সম্পর্কে বলেছে : ‘খুবই বিজ্ঞ চিন্তা লিখতে সক্ষম হলেও সে নিজের পরামর্শ অনুসরণভ করতে বেশ খানিকটা অক্ষম’
কোনো কোনো সময় এটা আমার ঘটনা। কিন্তু আমি যতটা পারি নিজের বক্তব্যের ঘনিষ্ঠ থাকতে চেষ্টা করি, কারণ বেশিরভাগ সময় আমি নিজের জন্যই লিখি। আমি কে?—সেই সম্পর্কে আরও একটু ভালো আভাস পেতে আমি লিখি। নতুন একটা বই শেষ করলাম আর উপলব্ধি করলাম, ওরে খোদা, এসব জিনিস ছিলো আর আমি দেখতে পাচ্ছিলাম না। সেই সময়ের মতো যখন যিশু অন্ধ মানুষটিকে চোখের আলো ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তখন সেই ব্যক্তি সিনাগগে গেল এবং বললো ‘দেখো আমার চোখ ফিরিয়ে দিয়েছে!’ আর অন্যরা বললো, ‘সে ভুয়া এবং ভণ্ড’। আর সেই লোকটি বললো; ‘আমি পরোয়া করি না। আমি অন্ধ ছিলাম কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছি।’ ফলে আমার ক্ষেত্রেও খানিকটা একই রকম : কখনও কখনও আমি নিজের কাছেই অন্ধ কিন্তু উত্তর আমার আত্মার মধ্যেই রয়েছে আর হঠাৎ করেই আমি তাদের দেখতে শুরু করি।

আপনার দশ কোটির বেশি বই বিক্রি হয়েছে—আরও সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে তেরো কোটি ৫০ লাখ। বিপুল সংখ্যক মানুষ নিশ্চিতভাবে আপনার দিকে তাকিয়েছে কেবলমাত্র আপনি কে তা প্রকাশের জন্য নয়—
আমি বহুবার এই মন্তব্য শুনেছি। আমার অনুভূতি বলি—পাঠকদের সঙ্গে সাক্ষাতে আমার দু্টি উপায় : বইয়ে রাখা স্বাক্ষর আর ইন্টারনেট। এক হাজারের মধ্যে হয়তো এক জন জানতে চায় কী করতে হবে। আমার স্বাক্ষরগুলোতে কখনো নয়। ফেসবুক কিংবা টুইটারে, তারা হয়তো বলছে, ‘আজ আমার এটা করতে ইচ্ছে হচ্ছে…কিন্তু আমি আমার স্ত্রীকে বলেছি, আজ আমি এটা করতে উৎসাহ পাচ্ছি না’, কারণ এটা নয় যে তার স্ত্রী তার জীবনের চূড়ান্ত উত্তরটা জানে না কিন্তু এই কারণে যে তার মনে হয়েছে স্ত্রীকে এটা জানালে তার সমস্য বাড়তে পারে। আমার পাঠকরা কখনোই আমার কাছে প্রশ্ন করে না, ‘পাওলো, আমার জীবনের অর্থ কী?’ তারা জানে আমার কাছে উত্তর নেই।

তারপরও, তাদের অনেকের জন্যই ‘দ্য আলকেমিস্ট’ অন্যতম একটি বই যা একজনের জীবন বদলে দিয়েছে কিংবা দুনিয়া দেখার ধরণ বদলে দিয়েছে। সেই কারণে আপনি যদি কখনোই কী করতে হবে তা নির্ধারণ করে দিয়ে নাও থাকেন তারপরও আপনি বহু মানুষের জীবনে ভূমিকা রেখেছেন—
কখনো জানা যাবে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ‘দ্য প্রোফেট’-এর লেখক কহলিল জিবরান কি জানতো সে আমার জীবনে ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে? কিংবা উইলিয়াম ব্লেক? কিংবা হেনরি মিলার? কিংবা হোর্হে লুইস বোর্হেস? না।

যাজকের মতো কিছু না থাকলেও মহান লেখকদের কাজে কিছুটা তো থাকে?
আপনার কী মনে হয়, হেনরি মিলারের তা ছিলো? না! না! না! অনেক লেখকই এটা করার চেষ্টা করেন কিন্তু তারা ব্যর্থতার জন্য নিন্দিত হয়েছেন। যে বই আমাকে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করে আমি তা পড়ি না, কারণ—আমি এক সপ্তাহের জন্য শিখতে পারি কিন্তু তারপর এই শিক্ষাগুলো হারিয়ে যায়। আত্ম-উন্নয়নমূলক বইগুলোর মতো আপনি জানেন? আপনি সেগুলো পড়ের আর ভাবেন, ‘ঠিক আছে, এগুলো আমার জীবন বদলে দেবে’—আর এক সপ্তাহ পরে আপনি একই সমস্যায় পড়তে থাকবেন। ফলে, আপনি যখন লিখবেন, তখন আপনি শেখানোর জন্য লিখবেন না, আপনি শেখার জন্য লিখবেন।

আর আপনি কখনোই জ্ঞাতসারে জানবেন না কার দ্বারা প্রভাবিত হতে যাচ্ছেন। আমি সত্যিই প্রভাবিত হয়েছিলাম ‘দ্য বিটলস’-এর মাধ্যমে। আপনার কি মনে হয় সেই কারণে আমার জন লেনন ও পল ম্যাককার্টনিকে প্রশংসা কিংবা দোষারোপ করা উচিত? না। তারা জানতোও না যে আমার অস্তিত্ব আছে। কিন্তু তারা ছিলো আর তারা সেই অনুভূতিইগুলোই ভাগ করে নিয়েছিলো যেটা আমি ওই মুহূর্তে চিন্তা করছিলাম, আর সেই অনুভূতি সত্যিই পার্থক্য গড়ে দেয় যে, আমি একা নই। সম্ভবত এটা আমার বইয়ের ক্ষেত্রেও। মানুষ অনুভব করে যে এই লেখক আছে আর সে তাই অনুভব করছে যা আমি করছি আর তারা একা নয়। আর সেটাই সবকিছু।

আপনি কি নিজেকে জাদুবাস্তব ঘরানার লেখক মনে করেন? আপনার বইগুলোতে জাদুবাস্তবতা আমরা খুঁজে পাই, কিন্তু আপনি ‘দ্য পিলগ্রিমেজ এবং ‘দ্য ভলকায়ারস (১৯৯২)-কে বর্ণনা করেছেন ‘নন-ফিকশন’ হিসেবে। আপনি সেই বর্ণনা দিতে পারেননি, সত্যিই, পেরেছিলেন কি?
দেখুন, আমরা কি ‘দ্য ভলকায়ারস নিয়ে আলাদা করে কথা বলতে পারি? এটা ঠিক যে এই বইটি একশ’ ভাগ নন-ফিকশন নয়, ঠিক? কিন্তু জোরটা সেখানেই। ফলে আমি নিজেকে জাদুবাস্তবতার মানুষ বলতে পারি না। বাস্তববাদী বলা যেতে পারে যিনি তার লেখায় যাদু স্পর্শ করেছেন।

এই দুনিয়ার বাইরে কোনও অদৃশ্য দুনিয়া কি আছে যা আমাদের বেশিরভাগেরিই কাছেই কোনও খোঁজ নেই?
অবশ্যই আছে। অবশ্যই। অদৃশ্য কিন্তু খুবই উপস্থিত, জানেন? উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আপনি ভালোবাসা, ভয়, কিংবা রাগ স্পর্শ করতে পারবেন না, পারবেন? এগুলো অদৃশ্য, কিন্তু নিশ্চিতভাবেই এগুলো আছে—আর আপনার জীবনকে পকেটে থাকা অর্থের চেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। আমার জন্য একই বিষয় ঈশ্বরের কাছে যাওয়া, তাই না? দেখা যায় না, কিন্তু আছে। ব্যাখ্যার কোনও দরকার নেই, প্রমাণের দরকার নেই—মানুষ আমাকে প্রায়ই যে প্রশ্ন করে তার একটি হলো : ঈশ্বর কী? আমি বলি, ‘জানি না। ঈশ্বর নিয়ে কেবল আমার অভিজ্ঞতা আছে, আমি অন্যের সঙ্গে এটা ভাগ করতে পারবো না, এটা ভাগ করা অসম্ভব।’

কিন্তু তারপরেও আপনি ব্যক্তিগত বার্তাবাহক, গার্ডিয়ান, ফেরেশতা এবং শয়তান নিয়ে কথা বলেছেন। আপনাকে বিরক্ত করা একটি কুকুরের ধরন নিয়ে এগুলো আপনার সামনে এসেছে—
ওহ, হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্যাঁ।

আমি যদি চার্চে এই ধরনের বিষয় নিয়ে কথা বলতে শুরু করি, তাহলে তারা হয়তো আমাকে ভদ্রভাবে বেরিয়ে যেতে বলবে, যদি সমস্যাটা চলতেই থাকে।
আমার সেরকম মনে হয় না। তারা খুবই আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে কারণ আমাদের জীবনের যাদুকরী মুহূর্ত সেইগুলো যখন অদৃশ্য দুনিয়া এই দৃশ্যমান দুনিয়াকে স্পর্শ করে।

সেই কারণেই ‘দ্য আলকেমিস্ট’-এর শেষে ছেলেটি পার্থিব গুপ্তধন খুঁজে পায়। বহু মানুষ বলেছে, ‘আপনি কেন ছেলেটিকে পার্থিব গুপ্তধনের সন্ধান দিলেন? সমগ্র যাত্রাটিতে সে নিজেই ছিলো যাদুকরী।’ আমি বলেছি : হ্যাঁ, কিন্তু সে কোনও যাদুর খোঁজ করছিলো না, সে গুপ্তধনের সন্ধানে ছিলো।’ আপনি জানেন? আমি সেগুলো রেখে দিতে পারতাম না। ‘দ্য আলকেমিস্ট’ আসলে সেটাই।

আপনি যদি চার্চে দুনিয়ায় ঈশ্বরের দৃশ্যমান প্রকাশ নিয়ে কথা বলতে যান, আপনি অবাক হয়ে যাবেন যে এই অভিজ্ঞতা আরও কতো মানুষের রয়েছে আর এগুলো জানাতে তারা ভয় পাচ্ছে কারণ তারা ভাবছে তাদের খ্যাপাটে তকমা দেওয়া হবে, জানেন আপনি? মানুষ এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে সত্যিই ভয় পায়। চলবে
[ঈদ পরবর্তী সময়ে সাক্ষাৎকারের বাকি অংশ সিজেএমবির সাহিত্য পাতায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে]

লেখক পরিচিতি

সিজেএমবিhttps://cjmb.net
সিজেএমবি (সিটিজেন জার্নালিস্ট মিডিয়া অব বাংলাদেশ) কেবল বাংলাদেশেরই নয়, বাংলা ভাষার প্রথম নাগরিক সাংবাদিকতা-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। আমাদের প্রথাগত ও প্রধান ধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর ক্রমকর্তৃত্বতান্ত্রিক-মুনাফামুখীন ও ক্ষমতাশক্তির প্রতি নতজানু যে সম্পাদকীয় নীতি জারি থাকে; তার বিপরীতে ক্রমতন্ত্রবিহীন, অলাভজনক, সত্যিকারের জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যু-সম্বলিত ও মানুষের পক্ষের সম্পাদকীয় নীতি হাজির করতেই সিজেএমবি’র আবির্ভাব।

Get in Touch

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

আরও পড়ুন

হোর্হে লুইস বোর্হেস-এর কবিতা

হোর্হে লুইস বোর্হেস-এর এ-কবিতাগুলি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ফের্বোর দে বুয়েনোস আইরেস’ (বুয়েনোস আইরেসের জন্য ব্যাকুলতা)-এ অন্তর্ভুক্ত

অমৃতলোকের কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন

অনন্য কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন, একাত্তরের বাঙালির ভয়াল দিন-রাত্রিতে আপনি ছিলেন ঢাকা শহরের অধিবাসি হয়ে। দু’চোখে দেখেছেন জল্লাদ রক্তপিপাসু পাকিস্তানীদের রক্ত উল্লাস। উদ্যত রাইফেল আর মেশিনগানের মুখে গোটা বাংলাদেশ নেতিয়ে পড়েছিল

পেন পিন্টার প্রাইজ পেলেন জিম্বাবুয়ের ঔপন্যাসিক

তার সর্বশেষ প্রকাশিত উপন্যাস ‘দিস মউর্নঅ্যাবল বডি’ গত বছরের বুকার পুরস্কারের লং লিস্টে জায়গা করে নিয়েছিলো। দুর্নীতি ও ভঙ্গুর অর্থনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে গত বছর গ্রেফতার হন তিনি।

Get in Touch

সর্বশেষ প্রকাশিত