মহামারি অবসানে যেভাবে বাধা সৃষ্টি করছে ধনী দেশগুলো

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে যদি কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কগুলো কতটা কুৎসিত রূপ নিতে পারে, এরইমধ্যে তার আভাস পেয়ে গেছে বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য, ইসরায়েলসহ হাতে গোনা কয়েকটি দেশ তাদের জনগোষ্ঠীর বিশাল অংশকে টিকা দিতে সক্ষম হলেও বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই এখনও জনগোষ্ঠীর ৫ শতাংশ মানুষকেও টিকা দিতে সমর্থ হয়নি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাই আশঙ্কা করছেন, ধনী দেশগুলোর ‘ভ্যাকসিন ন্যাশনালিজম’র কারণে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর আশা দূরাশাই থেকে যাবে। একইসঙ্গে ভ্যাকসিন ধনী দেশগুলোর ব্যবসায়িক স্বার্থ আদায় ও ক্ষমতা প্রদর্শনের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে বলেও আভাস দিয়েছেন তারা।

বস্টনে নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের সব দেশে ভ্যাকসিন সমভাবে বণ্টন করা হলে যত সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হতো, ধনী দেশগুলোর ‘ভ্যাকসিন ন্যাশনালিজম’-এর কারণে সে সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

ভ্যাকসিন ন্যাশনালিজম (জাতীয়তাবাদ) জিনিসটা কী?

ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ নতুন কোনও প্রপঞ্চ নয়, এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে৷ ২০০৭ সালের ইন্দোনেশিয়ার ঘটনা এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। সে সময় বার্ড ফ্লু ভাইরাসে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম ছিল ইন্দোনেশিয়া। তবে ধনীরা আগাম চুক্তির মাধ্যমে ভ্যাকসিন কিনে নেয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি হওয়া সত্ত্বেও ইন্দোনেশিয়া এইচ৫এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন কিনতে পারেনি৷ ২০০৯ সালে ধনী দেশগুলো এইচ১এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জা (সোয়ান ফ্লু নামে পরিচিত) ভ্যাকসিনের প্রায় সব ডোজ কিনে নেয়ায় বেশি আক্রান্ত দেশগুলো ভ্যাকসিন পায়নি৷

করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। বিশ্বের দেশগুলোর একটি বড় অংশ মার্চের শেষ নাগাদ জনসংখ্যার ১ শতাংশ কিংবা ২ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে পেরেছে। অনেক দেশ এখনও ভ্যাকসিন কার্যক্রমই শুরু করতে পারেনি। যা ঘটেছে, সেটার নেপথ্যে রয়েছে ‘ভ্যাকসিন ন্যাশনালিজম’।  যখন কোনও দেশের সরকার অন্য দেশকে সুযোগ না দিয়ে নিজ দেশের জন্য ভ্যাকসিন মজুদ করে ফেলে,  তখন থেকেই ভ্যাকসিন ন্যাশনালিজমের সূচনা হয়। এর সবচেয়ে খারাপ দিক হলো, বিশ্বের ধনী দেশগুলো নিজ দেশের মানুষের জীবন নিয়েই শুধু চিন্তা করে, অন্য দেশকে সাহায্য করা কিংবা অতিমারির বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে লড়াই করার কোনও মনোভাব তাদের মধ্যে থাকে না৷ তবে মহামারি তো বৈশ্বিক প্রশ্ন, তাকে মোকাবিলার প্রশ্নও বৈশ্বিক। ১০টা দেশ থেকে করোনাভাইরাস নির্মুল করে লাভ নেই, যদি বাকি বিশ্বে সেটা থেকে যায়। তখন কিন্তু বাকী বিশ্ব থেকে আবার সেই ১০ দেশে ভাইরাস ঢুকে যাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে ‘ভ্যাকসিন ন্যাশনালিজম’-এর ব্যবসায়িক ও ক্ষমতাপ্রশ্ন এসব আমলে নিতে চায় না।

জাতিসংঘের মহাসচিব কয়েক মাস আগে বলেছেন, ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদের প্রকোপ পুরোদমে বেড়েই চলেছে৷ অক্সফামের তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরেই আমেরিকা, ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কয়েকটি দেশ, অস্ট্রেলিয়া, হংকং, ম্যাকাও, জাপান, সুইজারল্যান্ড করোনা ভ্যাকসিনের অর্ধেকেরও বেশি (৫১%) ডোজ কেনার আগাম চুক্তি সেরে ফেলে৷

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ভ্যাকসিন ন্যাশনালিজমের বিরুদ্ধে বলতে বাধ্য হয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থা আইএমএফ। তারা জানিয়েছে, এরইমধ্যে যুক্তরাজ্যে ৪৬.৫ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৩২.‌১ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। বিপরীতে মালিতে একজনকেও এখনও ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা যায়নি। পাকিস্তানে মোট জনসংখ্যার ০.০৩ শতাংশ, ভিয়েতনামে ০.০৫ শতাংশ, ত্রিনিনাদ অ্যান্ড টোবাগোতে ০.০৭ শতাংশ এবং নামিবিয়ায় ০.০৮ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে।

সমস্যাটা কোথায়?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যতটা সম্ভব সর্বোচ্চ দক্ষ উপায়ে নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা গেলে দ্রুততার সঙ্গে মহামারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যেত। বিশেষ করে বিশ্বের সব মানুষের জন্য ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে না পারা পর্যন্ত চিকিৎসাকর্মী, নার্সিং হোম কর্মী এবং বয়স্করাসহ সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী দেশগুলো তেমনটাই করছে।

ডিসেম্বরে ইউরেশিয়া গ্রুপের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মহামারির সময়ে নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে ভ্যাকসিন-বঞ্চিত রাখা হলে তা ওই অঞ্চলগুলোর পাশাপাশি অগ্রসর অর্থনীতির জন্য উল্লেখজনক অর্থনৈতিক ক্ষতি বয়ে আনবে।

বিশ্বের কিছু অংশে সার্স কভ-২ ভাইরাস থেকে গেলে তার থেকে বিপজ্জনক কিছু ভ্যারিয়েন্ট তৈরির আশঙ্কা থেকে যায়। আর তখন এ ভ্যারিয়েন্টগুলো অবশ্যম্ভাবীভাবে বিশ্বের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়বে এবং বিদ্যমান ভ্যাকসিন দিয়ে সেগুলোকে ঠেকানো যাবে না।

ভ্যাকসিনেশনের প্রথম কাতারে যারা

ইসরায়েল: ভ্যাকসিন গ্রহণকারীর সংখ্যার দিক দিয়ে অন্য দেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে ইসরায়েল। মার্চ মাসের শেষ নাগাদ দেশটির মোট জনসংখ্যার ৫৩ শতাংশ মানুষকে টিকা প্রদানের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পুনর্নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে ফাইজারের টিকার প্রতি ডোজ বাবদ উৎপাদক প্রতিষ্ঠানকে ৩০ ডলার করে পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্র সরকার ফাইজারকে যত মূল্য দিতে চেয়েছিল তার চেয়ে নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত মূল্য প্রায় ৫৩ শতাংশ বেশি। ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর গোটা দেশের তথ্য বিনিময়েও সম্মতি দিয়েছিলেন তিনি। আর তা ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা সংক্রান্ত গবেষণার ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্র: বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪ শতাংশের বসবাস যুক্তরাষ্ট্রে। ব্লুমবার্গের ভ্যাকসিন ট্র্যাকারের তথ্য অনুযায়ী মার্চের শেষ নাগাদ বিশ্বের মোট কোভিড ভ্যাকসিন ডোজের এক চতুর্থাংশই নিজেদের জনগণকে প্রয়োগ করতে সমর্থ হয়েছে দেশটি।

ভ্যাকসিনের জন্য গঠিত লাখ লাখ ডলার সমমূল্যের অপারেশন ওয়ার্প স্পিড প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে যুদ্ধকালীন ক্ষমতা ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সবার আগে মার্কিন সরকারের জন্য বিপুল পরিমাণের ক্রয়াদেশ পূরণ করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। যা ভ্যাকসিন রফতানির ওপর ডি ফ্যাক্টো নিষেধাজ্ঞার সামিল। বিনিময়ে ডিফেন্স প্রডাকশন অ্যাক্টের আওতায় কোম্পানিগুলো গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা পেয়েছে। ডিফেন্স প্রডাকশন অ্যাক্টের আওতায় সংকটপূর্ণ সময়ে উৎপাদন কাজের ওপর অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে মার্কিন সরকার।

যুক্তরাজ্য: খুব দ্রুত করোনা ভ্যাকসিনের জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার মধ্য দিয়ে ভ্যাকসিন দৌড়ে এগিয়ে যায় যুক্তরাজ্য। এমনকি নিজেদের দেশে উৎপাদিত ভ্যাকসিনের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই তা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মতো যুক্তরাজ্যও বিভিন্ন ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে রেখেছিল যেন প্রয়োজনীয় ডোজ নিশ্চিত করা যায়। আর এসব চুক্তির কারণে ভ্যাকসিন উৎপাদনের পর পরই তা হাতে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় দেশটির জন্য।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন কী কারণে পিছিয়ে আছে?

এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ আছে। একটি কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভ্যাকসিন কর্মসূচিতে যত খরচ খরচ করছে তার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠছে না জোটটি। সে কারণে তাদের কাছে টিকার সরবরাহ কম হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, টিকাগ্রহণ করে রক্ত জমাট বাঁধার অভিযোগ ওঠার পর কিছু কিছু ইউরোপীয় দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সতর্কভাবে কাজ করছে। বয়স্কদের শরীরে এ ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে যথেষ্ট তথ্য না থাকায় ভ্যাকসিন গ্রহণের ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণসহ বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে ইইউ। আরও একটি কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে ভ্যাকসিন রফতানির অনুমতি দিয়েছে জোটটি। মার্চের শেষ নাগাদ কোম্পানিগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোতে ৭ কোটি ৭০ লাখ ডোজ রফতানি করেছে। একই সময় নাগাদ ইইউ-এর নাগরিকদের শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে ৬ কোটি ২০ লাখ ডোজ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্মকর্তারা বারবারই এ ধরনের রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হমকি দিয়ে আসছিলেন।

অন্য দেশগুলোর কী হাল?

কম জনসংখ্যা অধ্যুষিত গুটিকয়েক দেশ তাদের নাগরিকদের একটি উল্লেখজনক অংশের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে পেরেছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে- চিলি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মালদ্বীপ, সিসিলিস ও মোনাকো।  অনেক মধ্যম ও নিম্ন আয়ের দেশের নিজেদের পক্ষে ভ্যাকসিন কেনার মতো সক্ষমতা নেই। তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে গঠিত কোভ্যাক্স জোটের ভ্যাকসিন সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

কোভ্যাক্স কিভাবে কাজ করছে?

কোভ্যাক্স-এর পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনস গ্লোবাল অ্যাকসেস ফ্যাসিলিটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ছাড়াও উদ্যোগটির সঙ্গে রয়েছে কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশন ও দাতব্য সংস্থা গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই)। এর লক্ষ্য হলো-কোভিড ১৯ ভ্যাকসিন মজুত করে না রেখে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সর্বোচ্চ ঝুঁকির দেশগুলোতে তা বণ্টন করার জন্য বিভিন্ন দেশের সরকারকে উৎসাহিত করা। কোভ্যাক্স কর্মসূচির আওতায় গোটা বিশ্বে ২০২১ সালের মধ্যে করোনা ভ্যাকসিনের অন্তত ২০০ কোটি ডোজ সরবরাহের লক্ষ্য নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর দুই-তৃতীয়াংশই যাওয়ার নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে।

ভ্যাকসিন মজুতকারী দেশগুলো কি অন্য দেশের সঙ্গে তা ভাগাভাগি করবে?

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের স্বাস্থ্য ও কোভিড-১৯ বিষয়ক প্রতিবেদক জেমস পাটন মনে করেন, ধনী দেশগুলো কোভ্যাক্স কর্মসূচিতে চুক্তিকৃত ডোজ সরবরাহের বদলে অর্থের অনুদান দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে থাকতে পারে। অথচ ডোজ সরবরাহেরই প্রতিজ্ঞা করেছিল তারা। পাটন এক নিবন্ধে আরও লিখেছেন, নরওয়ে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ কোভ্যাক্স কর্মসূচিতে অবদান রাখার অঙ্গীকার করেছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যায়নি। আলাদাভাবে প্রতিবেশি মেক্সিকো ও কানাডায় অ্যাস্টাজেনেকার টিকার প্রায় ৪০ লাখ ডোজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহারের অনুমোদন নেই। ঋণ হিসেবে এ টিকা পাঠানো হতে পারে। ভবি্ষ্যতে একই কিংবা ভিন্ন ধরনের টিকার মাধ্যমে এ ঋণ পরিশোধের শর্ত দেওয়া হতে পারে।

রাশিয়া চীনের ভিন্ন অবস্থান

ভ্যাকসিন বিতরণ নিয়ে বেশিরভাগ দেশই যখন জাতীয়তাবাদী আচরণ করছে তখন রাশিয়া ও চীন তাদের তৈরি ভ্যাকসিন সানন্দে অন্য দেশগুলোতে পাঠাচ্ছে। একে কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে তারা। তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশে ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে বেইজিং। আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো ও কেনিয়াসহ আরও কিছু দেশে নিজেদের তৈরি স্পুটনিক ভি ভ্যাকসিন রফতানি করেছে রাশিয়া। ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে রাশিয়ার তৈরি স্পুটনিক ভি নিরাপদ ও কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে নিজেদের রফতানিকৃত সিনোভ্যাক বায়োটেক ও সিনোফার্ম-এর তৈরি আলাদা দুই টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফল অপেক্ষাকৃত কম স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশ করেছে চীন।

বিকল্প ধারার সংবাদমাধ্যম জি নেট-এ প্রকাশিত নিবন্ধে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক ও ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক সাশা আব্রামস্কি ভ্যাকসিনের সুবিধাভোগী দেশগুলোর সঙ্গে ভ্যাকসিনবঞ্চিত দেশগুলোর বিভক্তি বাড়ার আশঙ্কা জানিয়েছেন। তার ধারণা এমন অবস্থায় কোনও কোনও ধনী দেশের সরকার ভ্যাকসিন রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদমূলক আচরণ প্রবল করে তুলতে পারে। এমনকি অন্য দেশের সঙ্গে টাকার বিনিময়ে ভ্যাকসিন সরবরাহের যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল তা ভঙ্গেরও নজির দেখা যেতে পারে। সাশা আব্রামস্কি লিখেছেন ‘বহির্বিশ্বে প্রভাব বিস্তারের উপায় হিসেবে কিংবা অস্ত্র বিক্রি ও উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের শর্ত দিয়ে বেছে বেছে কিছু দেশে ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে পারে ধনী দেশগুলো।’

লেখক পরিচিতি

ফাহমিদা উর্ণি
পাঠ নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে। পেশায় সাংবাদিক।

Get in Touch

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

আরও পড়ুন

সিয়াম-শাহতাজের জমাটবদ্ধ লাল পদ্ম

ঈদের ষষ্ঠ দিন সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে আরটিভির পর্দায় মুক্তি পাবে ফিকশনটি ।

অভিনেতা খায়রুল বাসারের একান্ত সাক্ষাৎকারঃ ১ম পর্ব

নবাগত অভিনেতা খায়রুল বাসার ইতিমধ্যেই বড় এবং ছোট পর্দার নানান চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, ওয়েব সিরিজ ও টিভি ফিকশনে নিজের মেধার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। দর্শক এবং সমালোচক উভয় মহল থেকেই প্রশংসিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থীর একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিজেএমবির শিল্প বিভাগের সম্পাদক ও নির্মাতা সিজু খান। যার প্রথম পর্ব প্রকাশিত হলো এখানে। চিত্রগ্রহণ ও সম্পাদকঃ ইমরানুজ্জামান সোহাগ

Get in Touch

সর্বশেষ প্রকাশিত