প্রসঙ্গ : পাখিবিদ সালিম আলির আত্মজীবনী ‘দ্য ফল অব অ্যা স্প্যারো’

[মূল কার্তিক শঙ্কর, অনুবাদ : অমৃতা ডি কস্তা]

সালিম আলি সম্পর্কে কিছু একটা লিখতে চাইলে তার প্রশংসা না করে শুরু করাটা খুব কঠিন। তার আত্মজীবনী সম্পর্কে কিছু লিখতে চাইলেও লেখকের প্রশংসা করা এড়িয়ে গিয়ে লেখাটা খুব কঠিন। আমার এই লেখাটি শুধু কোনো একজন অসাধারণ পাখিবিজ্ঞানীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানোর জন্য নয়, বরং এটি তার আত্মজীবনী সম্পর্কে একটি পর্যালোচনা। তাছাড়া কেউ কখনো কোনো কিংবদন্তির সম্পর্কে কোনো লেখা লিখবেন এবং সেটা তার বিজয়গাথার মতো শোনাবে না, তাই কি কখনো হয়? যাকগে, সালিম আলি সম্পর্কে যত প্রশংসাই করা হোক না কেন আমার মতে তা কখনোই পর্যাপ্ত হবে না।

‘দ্য ফল অব অ্যা স্প্যারো’ পড়ার পর আমার সর্বপ্রথম অনুভূতি ছিলো, এই বইটি আমি আরও আগে কেন পড়িনি! হয়তোবা এমন অনেক প্রকৃতিবিদ, প্রাকৃতিক ইতিহাসবিদ এবং অন্যান্যরা আছেন যারা বিভিন্ন সময়ে এবং বিভিন্ন কারণের প্রেক্ষাপটে ওতপ্রোতভাবে অথবা হালকাভাবে সালিম আলির কাজের সংস্পর্শে এসেছেন (যেমন তাদের অনেকেই তাদের বিভিন্ন গবেষণার কাজে সালিম আলির লেখা বই ‘বুক অব ইন্ডিয়ান বার্ডস’ অথবা ‘হ্যান্ডবুক অব দ্য বার্ডস অব ইন্ডিয়া অ্যান্ড পাকিস্তান’ ব্যবহার করেছেন)। যারা এখনও সালিম আলির আত্মজীবনী পড়েননি, তাদের প্রতি আমার উপদেশ, ‘বইটি এখনই পড়ে ফেলুন’।

The fall of a sparrow

‘দ্য  ফল অব অ্যা স্প্যরো’ সম্পর্কে আমার এতো অনুভূতি এই কারণে নয় যে এটাকে সাহিত্যের একটি মহান কাজ বলে আমার মনে হয়েছে। ব্যপারটা মোটেও তা নয়, যদিও বইটি দারুণভাবে উপভোগ করার মতো উপযুক্ত একটি বই। কিন্তু সাহিত্যের প্রকৃত গুণাগুণের সঙ্গে তুলনা করলে বইটিকে দুর্বল মনে হবে। যে কারণে আমি এই বইটির ব্যাপারে বলবো, তা হলো—এই বইটি একজন অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং নিবেদিত প্রাণ মানুষের একাগ্রচিত্তে কাজ করার চরম ফলাফলগুলো দেখায়, যেটা এই একাবিংশ শতাব্দীতে এসে প্রাকৃতিক ইতিহাসের প্রতি সবার আকর্ষণ তৈরি করানোর পক্ষে সক্ষম।

পাখিবিদ সালিম আলির সম্পর্কে যদি বলতে যাই তবে তার নানাবিধ দিক রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলো দিকই তার বিশাল সংখ্যক ভক্ত ও অনুসারীদের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে দৃষ্টিগোচর নয়। এই দিকগুলো তিনি খুবই ধীরে ধীরে প্রকাশ করেন, এবং ধীরে ধীরে প্রমাণিত হয় যে তিনি ছিলেন একজন স্থির লক্ষ্য এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ। বইটির সঙ্গে সময় গড়ানোর ভেতর দেখতে পাই, একজন পাখিনিরীক্ষকের ধীরে ধীরে একজন পাখিবিদ এবং প্রকৃতিবিদে বিবর্তিত হয়ে যাওয়ার ঘটনা। দেখতে পাই, সালিম আলি যে নিবেদিতভাবে এবং যে মনোবল নিয়ে তার কাজ করে যেতেন, তার বিবাহ থেকে শুরু করে তার পাখিবিদ হয়ে ওঠা পর্যন্ত কিছুই তার জীবনের সাময়িক মোহ ছিল না, বরং পুরোটাই ছিলো তার বিশুদ্ধ ভালোবাসা। খুঁটিনাটি বিষয়ের প্রতি আসক্তি এবং তার খুঁটিনাটি ব্যাপারে অতিরিক্ত সতর্কতা বৈজ্ঞানিকভাবে তার ব্যক্তিত্বের কাঠিন্যতাকেই নির্দেশ করে, যার তুলনা শুধুমাত্র অতি উৎকৃষ্টের সঙ্গে করা যায়।

সালিম আলি তার আলোচিত কর্মজীবনের তর্জমা শুরু করেন হায়েদ্রাবাদে পাখি জরিপ করার মধ্য দিয়ে। তিনি জানান, ‘বিএনএইচএসকে আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম তারা যেন স্বেচ্ছাসেবী ভূমিকায় এই অঞ্চলগুলোতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে মাঠপর্যায়ে পাখিদের ওপর জরিপ করে এবং এই জরিপ করা নিয়মিত রাখতে যা খরচ হয় তার ব্যয়ভার বহন করার জন্য যেন প্রয়োজনীয় তহবিলের ব্যবস্থা করে’। তার এই জরিপের কাজের জন্য তাকে বেশ কিছু অঞ্চলে পরিভ্রমণের জন্য বের হতে হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য স্থান হলো নীলগিরি, আফগানিস্তান, পাখিদের তীর্থস্থান কৈলাস মনসারোভার, ফ্লেমিঙ্গো শহর, ভারতপুর, বস্তার এবং পূর্ব হিমালয়। এর মধ্যে বেশ কিছু জরিপের কথা তার বই ‘বার্ডস অব সিকিম’ এবং ‘বার্ডস অব কেরালা’-তে স্থান পেয়েছে। যাইহোক, সন্দেহাতীতভাবেই তার সাহিত্যকর্মের সবচেয়ে বড় নিদর্শনটি হলো ১৯৬৪ এবং ১৯৭৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ে প্রায় দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে লেখা মোট দশটি খণ্ডের বই ‘হ্যান্ডবুক অব দ্য বার্ডস অব ইন্ডিয়া অ্যান্ড পাকিস্তান’। এটি তার সারাজীবনের পাখিদের নিয়ে পর্যবেক্ষণের একটি চূড়ান্ত ফলাফল। পরবর্তীতে এই বইটি সংক্ষিপ্ত নির্দেশক পুস্তিকা হিসেবে সংকলন করা হয়। এই বইটিকে ভারতের পাখি পর্যবেক্ষণের বাইবেল হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে।

সালিম আলি ব্যক্তি সালিম আলি সম্পর্কে খুব কমই আলোচনা করেছেন তার বইতে। বিশদভাবে বলতে গেলে, তার সম্পর্কে, তার বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যদেরই বলতে দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। এ বিষয়ে একজন ভাবতেই পারেন, তিনি কি তার সঙ্গে এই ব্যাপারে সুবিচার করছেন! আমি মনে করি তিনি একটা খুব বড় এবং দারুণ পরিবার থেকে এসেছেন। তিনি যেমন তার কিছু আত্মীয়-স্বজন, বিশেষত হামিদ আলি, তার ভাই এবং তার কিছু মামা এবং কাকাদের ব্যাপারে খুব অনেক বলেছেন অন্যদিকে অন্যান্যদের ব্যাপারে অদ্ভুতভাবে তেমন নীরব থেকেছেন। তবে তিনি তার পরিচালক এবং তার বেশ কিছু সহকর্মী এবং বন্ধুদের তাদের প্রাপ্য উপযুক্ত সম্মান জানিয়েছেন।

তিনি তার এই বইয়ের একটি সম্পূর্ণ অধ্যায় লিখেছেন তার বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষী লুক ওয়ান থো-কে নিয়ে। তিনি একজন হৃদয়বান মানুষ এবং একজন নিবেদিত-প্রাণ সহকর্মী ছিলেন। তাদের দৃষ্টিভঙ্গির সমূহ মিল এবং একই ধরণের আগ্রহ তাকে পরবর্তী দিনগুলোতে অন্যান্য বন্ধুদের তুলনায় আরও কাছে নিয়ে এসেছিলো।

রিচার্ড মেইনার্টজাগেনের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ খুবই মজার ছিল, কারণ ছিলো তারা স্বভাবতই দুই জন দৃষ্টিভঙ্গির দিক দিয়ে বিপরীতমুখী। প্রথমজন রাষ্ট্রবিরোধী মনোভাবাপন্ন, পরেরজন একজন আপাদমস্তক ঔপনিবেশিক। মেইনার্টজাগেনের সঙ্গে সালিম আলির প্রথম সাক্ষাতের ব্যাপারে তিনি তার ডাইরিতে লিখেছিলেন, ‘তাকে দেখে আমার বুদ্ধিমানই মনে হয়েছিল, কিন্তু গোপনে গোপনে তিনি ছিলেন নোংরা—গান্ধীর মতো নয়। [রিচার্ড মেইনার্টজাগেন ছিলেন ব্রিটিশ সৈনিক, গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং পাখিবিদ—সম্পাদক]

আত্মজীবনীতে সালিম আলি তার গুরু বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর পাখিবিদ এরভিন স্ত্রেজেমান সম্পর্কে আবেগ নিয়ে লিখেছেন—‘সরলতা এবং বিনয়, অহংকারহীনতা, পাণ্ডিত্য, তার বালকসুলভ প্রাণবন্ত রসিকতা, এবং তার বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের বিশালতা এই মানুষটি সম্পর্কে আমার ভেতর নানাবিধ প্রভাব এবং শ্রদ্ধা তৈরি করেছে। তিনি একজন বিজ্ঞানী, একজন পরামর্শদাতা, একজন বন্ধু…’ 

এবং অবশ্যই, সেখানে ডিলন রিপলের সঙ্গে অনেক দীর্ঘ সময় এবং ফলপ্রসূভাবে সংযুক্ত থাকার অনেক ঘটনা আছে। [সিডনি ডিলন রিপলে আমেরিকার দ্বিতীয় পাখিবিদ এবং বন্যজীবন সংরক্ষণবিদ ছিলেন—সম্পাদক] এবং হুইসলারের ব্যাপারেও আছে, যার নির্দেশনা এবং পরামর্শকে তিনি আঞ্চলিক পাখি জরিপের সফলতার পেছনের কারণ হিসেবে মনে করেন। [হিউ হুইসলার ছিলেন একজন ইংরেজ পুলিশ অফিসার এবং পাখি বিশেষজ্ঞ। তিনি মূলত ভারতে কাজ করেছিলেন। তিনিই প্রথম সারির গাইডদের একজন যিনি ভারতীয় পাখি নিয়ে লিখেছিলেন। এছাড়া নতুন উপ-প্রজাতির বর্ণনার পাশাপাশি বিভিন্ন জার্নালে পাখিদের নথিভুক্ত করেছিলেন—সম্পাদক]। বোম্বের সেইন্ট জেভিয়ার্স কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের জে পি মুলান এবং ফাদার ব্লেটারের সঙ্গে পাখিবিজ্ঞানের দুনিয়ায় যাত্রা শুরু করার পর থেকে এই দীর্ঘ এবং সফল একটি যাত্রার মধ্যে তিনি যাদের দেখে এবং যাদের কাছ থেকে উৎসাহ পেয়েছেন তাদের সকলকে শ্রদ্ধার সঙ্গে এই বইয়ের লেখার মধ্যে স্মরণ করেছেন। বোম্বে প্রাকৃতিক ইতিহাস সমিতির প্রাক্তন সহকর্মী এস এইচ পিটারের সম্পর্কে লিখতে গিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। তিনি স্মৃতিচারণ করেন—‘আমি যখন লন্ডনে তার সঙ্গে দেখা করতে যাই আমি তাকে আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং বিছানায় পড়ে থাকা অবস্থায় দেখি। আমি তাকে সম্পূর্ণ একা আবিষ্কার করি, দেখি সেখানে তার একঘেয়েমি দূর করার জন্য তার একমাত্র সঙ্গি ছিল তার রেডিও’।

সালিম আলির চিরস্থায়ী দর্শন হলো—গবেষণার জন্য হাতের মধ্যে থাকা একটি পাখি জঙ্গলে থাকা দুটো পাখির চেয়েও মূল্যবান। পুরোপুরিভাবে না হলেও পাখিদের বাস্তুসংস্থান নিয়ে কাজ করায় তার যে অবদান, পাখিদের শ্রেণীবিন্যাস নিয়ে কাজ করার অবদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ। ছবির পাখিটির নাম প্যারাডাইস ফ্লাইক্যাচার।

আপনি কি জানতেন সালিম আলি একজন মোটরসাইকেল প্রেমী লোক ছিলেন? এবং আপনি কি বিশ্বাস করতেন যদি কেও এই বিষয়ে আপনাকে ধারাবাহিকিভাবে মূল্যায়ন করেন? আমি অবশ্য করতাম না। যাইহোক, তিনি এই শক্তিশালী দ্বিচক্রযানের সঙ্গে তার সারাজীবনের সম্পর্কে নিয়ে আস্ত একটা অধ্যায় উৎসর্গ লিখেছেন। তার অনেকগুলো প্রিয় মোটরসাইকেলের মধ্যে ছিল হারলি ডেভিডসন (তিন মডেলের তিন ধরণের আলাদা পাওয়ারের), একটি ডগলাস স্কট, একটি নতুন হুডসন, এবং সর্বশেষ ও সবথেকে প্রিয় একটি সানবীম। তার চিরন্তন আফসোস ছিল তিনি কখনো একটি বিএমডব্লিউ সংগ্রহ করতে পারেননি। তার ইচ্ছা ছিলো যেন তিনি মারা যাওয়ার আগে তার স্বপ্ন পূরণ করে সন্তুষ্টভাবে মরতে পারেন। তিনি যখন ১৯৫০ সালে ইউরোপের সুইডেনের আপসালাতে একটি আন্তর্জাতিক পাখিবিষয়ক সভাতে যোগদান করেন তখন তার সফরসঙ্গি হিসেবে এই সানবীম সঙ্গে নিয়ে যান। তাতে করে ইংল্যান্ড এবং পুরো মহাদেশের একটি চমৎকার ভ্রমণ করেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদগুলো ঘুরে দেখার সঙ্গে সঙ্গে মহাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভারত থেকে অবসর পেয়ে আসা বন্ধুদের সাথে বেশি বেশি করে দেখা করেন।

অবশেষে বিজ্ঞানী সালিম আলি সম্পর্কে একটি কথা। তাকে শিকার-আইনের আওতায় আনা হয়, যে ঘটনাটি তার জীবনে কাজের ওপর দৃশ্যত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলো। তিনি বুঝতে পারেন যে সংরক্ষণবাদী, প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মীরা এবং সাধারণ চিন্তাধারার মানুষেরাও তার এই শিকারের মনোভাবকে অস্বাভাবিক ভাবতে পারেন। তিনি তার অবস্থান পরিস্কার করার জন্য কিছু সময় নেন। তিনি জানান, ‘এটা সত্য যে, আমি উদ্দেশ্যবিহীন হত্যা করা কে ঘৃণা করি এবং এটাকে একটা ধ্বংসাত্মক প্রবণতা হিসেবেও মনে করি, যা কঠোর নিন্দা পাবার যোগ্য। কিন্তু পাখিদের সম্পর্কে আমার ভালোবাসা মোটেও ভাবপ্রবণ ধরণের নয়। এটা অত্যাবশ্যকীয় শৈল্পিক এবং বৈজ্ঞানিক, এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যাবহারিকও বটে। পাখিদের নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণা করার সময় প্রায়ই প্রয়োজনের ভিত্তিতে কিছু পাখিকে গবেষণার কাজের জন্য উৎসর্গ করা হয়ে থাকে। আমার গবেষণার জন্য পূর্ববর্তী বছরগুলোতে শুধুমাত্র পদ্ধতিগত নমুনা সংগ্রহ করার জন্য সন্দেহাতীতভাবে কয়েক হাজার পাখিদের ব্যবহার করা করেছি। দুঃখজনক হলেও সত্যি, যদি এই পদ্ধতি অনুসরণ না করা হতো তবে ভারত উপমহাদেশে পাখি, তাদের ভৌগোলিক বিন্যাস, বাস্তুসংস্থান এবং জীবপরিবেশবিদ্যা সম্পর্কে জানা যেত না।

অবশেষে যখন সালিম আলি তার লেখা প্রচুর বই এবং তার অর্জন করা বহু পুরুস্কার সম্পর্কে বলা শুরু করেন, তখন এই ব্যাপার নিয়ে তার ভেতর অনেক পরিমাণে গর্ববোধ দেখা যায়। এমনকি খেয়াল করলে করলে তার মধ্যে অবাক হওয়ার ব্যাপারও লক্ষ্য করা যায়, এতো ছোটো থেকে শুরু থেকে কীভাবে এত কিছু তিনি অর্জন করলেন!

তার এই অর্জনের পেছনে সবচেয়ে শক্ত ভূমিকা ছিল তার আত্মবিশ্বাস এবং অঙ্গীকার যেগুলো তিনি তার কর্মজীবনের খুব কঠোরভাবে মেনে চলেছেন। এগুলো শুধুমাত্র একজন প্রকৃতিবিদ বাঁ পাখিবিদের জন্য নয় বরং প্রতিটি মানুষের জীবনে অনুসরণীয়। 

আমি যেমন সন্দেহ করেছিলাম, তাইই হয়েছে এই কথাগুলো বলার সময় সেগুলো স্বভাবতই সালিম আলির আরেকটি স্তুতিগাথার ভেতর মিশে গেছে। আমি এখন এখানেই থেমে যাচ্ছি আর শেষ করছি সালিম আলিকে নিয়ে তার প্রাক্তন সহকর্মী এবং সবচেয়ে কাছের বন্ধু রিপলির লেখা ‘সালিম আলির সাতাত্তরতম জন্মদিনের গীতিকথা, ‘কবিতার একটি অংশ দিয়ে…
ও সেলিম, আমাদের নায়ক, সেলিম সেই লোক
যার জ্ঞান সব সময় ওপরের দিকে থাকে
ক্ষুদ্র ডানার গায়ক পাখিদের আতঙ্ক, ফিন বায়ার ভক্ত
একজন সত্যিকারের স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব।

লেখক পরিচিতি

কার্তিক শঙ্কর
প্রকৃতিবিদ ও বাস্তুবিদ। সহযোগী অধ্যাপক, বাস্তুসংস্থান বিজ্ঞান কেন্দ্র, ইন্ডিয়ান ইনিস্টিটিউট অফ সাইন্স।

Get in Touch

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

আরও পড়ুন

হোর্হে লুইস বোর্হেস-এর কবিতা

হোর্হে লুইস বোর্হেস-এর এ-কবিতাগুলি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ফের্বোর দে বুয়েনোস আইরেস’ (বুয়েনোস আইরেসের জন্য ব্যাকুলতা)-এ অন্তর্ভুক্ত

অমৃতলোকের কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন

অনন্য কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন, একাত্তরের বাঙালির ভয়াল দিন-রাত্রিতে আপনি ছিলেন ঢাকা শহরের অধিবাসি হয়ে। দু’চোখে দেখেছেন জল্লাদ রক্তপিপাসু পাকিস্তানীদের রক্ত উল্লাস। উদ্যত রাইফেল আর মেশিনগানের মুখে গোটা বাংলাদেশ নেতিয়ে পড়েছিল

পেন পিন্টার প্রাইজ পেলেন জিম্বাবুয়ের ঔপন্যাসিক

তার সর্বশেষ প্রকাশিত উপন্যাস ‘দিস মউর্নঅ্যাবল বডি’ গত বছরের বুকার পুরস্কারের লং লিস্টে জায়গা করে নিয়েছিলো। দুর্নীতি ও ভঙ্গুর অর্থনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে গত বছর গ্রেফতার হন তিনি।

Get in Touch

সর্বশেষ প্রকাশিত